
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে, যার পেছনে কাজ করছে শক্তিশালী মার্কিন ডলার, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনা এবং বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার এই প্রভাব বিনিয়োগকারীদের আচরণেও বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতেই স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য পতন হয়। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫২৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারেও দর কমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ, যা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ হলো ডলারের শক্তিশালী অবস্থান। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। ফলে স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপও বেড়েছে। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে পারে। আর সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণে বিনিয়োগ সাধারণত কমে যায়, কারণ এতে সরাসরি কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাতের খবর এবং তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদের হার ও শক্তিশালী ডলারের কারণে সেই ভূমিকা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, স্বর্ণের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে, তবে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে এসে তা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্পমেয়াদে ঝুঁকি কমাতে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন।
শুধু স্বর্ণ নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমেছে, যা সামগ্রিকভাবে ধাতু বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদন




























