
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় চলমান অভিযান ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রতিবাদে দুই দেশেই উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা নতুন করে চাপে ফেলেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারকে।
শনিবার (২৯ মার্চ) রাতে তেলআবিবের হাবিমা স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত এক বৃহৎ যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ থেকে অন্তত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি পুলিশ।
এই আন্দোলনের আয়োজক আইন শিক্ষার্থী ইতমার গ্রিনবার্গ জানান, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। শনিবারের সমাবেশ ছিল এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড়, যেখানে প্রায় ১২০০ মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুরুতে মাত্র ২০ জন নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও এখন সাধারণ মানুষের সমর্থন বহুগুণ বেড়েছে। তারা বলছেন, এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
গ্রিনবার্গের মতে, আগে কেবল কট্টর বামপন্থিরাই এই যুদ্ধের বিরোধিতা করতেন, কিন্তু বর্তমানে উদারপন্থি ইহুদিবাদীরাও এই আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের মতো দেশে যেখানে জনমত সাধারণত যুদ্ধের পক্ষে থাকে, সেখানে এই পরিবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
পুলিশের ধরপাকড় সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের ‘সহিংস’ আচরণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এসব গ্রেফতারকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ব্যয়ভার বৃদ্ধি, রিজার্ভ সেনাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তা ইসরাইলি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে। ফলে যুদ্ধের প্রশ্নে দেশটির সমাজে ভাঙন তৈরি হচ্ছে, যা আগাম নির্বাচনের দাবিকে আরও জোরালো করতে পারে।





























