
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের সামনে পবিত্র কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি প্রতিনিধিদলের জন্য আলাদা আয়াত নির্বাচন করে ইরান নিজস্ব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ৩০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানজুড়ে বন্ধু, মিত্র, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিষয়বস্তুর আয়াত পাঠ করা হয়।
সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে সূরা আলে ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, যেখানে বদর যুদ্ধের প্রসঙ্গ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়াত নির্বাচনের মাধ্যমে ইরান ঐতিহাসিক বিজয়ের স্মৃতি এবং বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রতি একটি প্রতীকী ইঙ্গিত দিয়েছে।
হামাস, হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ, হাশদ আল-শাবি ও তালেবান প্রতিনিধিদের জন্য এমন আয়াত পাঠ করা হয়, যেখানে শাহাদাত, ধৈর্য, ঈমানে অটল থাকা এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ের প্রতিশ্রুতির বিষয় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিসরের প্রতিনিধিদের সামনে শান্তি, ন্যায়পরায়ণতা, ধৈর্য এবং আল্লাহর পুরস্কারের বিষয়বস্তুর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়। কাতার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের জন্যও তুলনামূলকভাবে সমঝোতা ও সহযোগিতার বার্তা বহনকারী আয়াত নির্বাচন করা হয়।
লেবানন সরকারের প্রতিনিধিদের জন্য সূরা আন-নিসার একটি আয়াত পাঠ করা হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কেউ এটিকে আত্মত্যাগ ও দায়িত্ব পালনের আহ্বান হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার মরদেহ তিন দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় রাখা হয়, যেখানে দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।




























