
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান ফুটবল দলকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দলটির অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের। এতে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইরান শিবির।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর এই অভিযোগ সামনে আনেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েই। তার দাবি, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগ না দিয়েই দ্রুত মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আমির ঘালেনোয়েই বলেন, একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনরুদ্ধারের সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। বরং ম্যাচ শেষ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ বিমানযাত্রার জন্য প্রস্তুত হতে হচ্ছে।
ইরানের কোচের মতে, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলোর তুলনায় তাদের দলকে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।
শুধু খেলোয়াড়দের যাতায়াত নয়, দলের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরানকে। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপনা দলের সদস্য এবং সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মকর্তা বিশ্বকাপ চলাকালে দলের সঙ্গে থাকতে পারেননি। এমনকি ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি বলে জানা গেছে।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্বকাপ চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার কথা ছিল। তবে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়।
পরবর্তীতে ইরান তাদের ক্যাম্প মেক্সিকোতে স্থাপন করে। ফলে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে তাদের মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এই যাতায়াতের কারণে খেলোয়াড়দের প্রায় পাঁচ ঘণ্টার বিমান ভ্রমণ করতে হচ্ছে। ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা এবং ম্যাচ শেষে দ্রুত মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আমির ঘালেনোয়েই বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুইবার দীর্ঘ বিমানযাত্রা একজন পেশাদার ফুটবলারের জন্য সহজ বিষয় নয়। এতে ক্লান্তি বাড়ে এবং মাঠের পারফরম্যান্সেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান শিবিরের দাবি, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সমান সুযোগ ও ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও মনে করছে ইরান। দলটির কর্মকর্তাদের আশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ইরানের যাতায়াত ও প্রশাসনিক জটিলতাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে এই পরিস্থিতি দলটির পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




























