
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও ৭ গোলের ঝড় তুলে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে জার্মানি। নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুধু দাপুটে জয়ই পায়নি তারা, একই সঙ্গে ব্রাজিলকে মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ভয়াবহ স্মৃতি, যখন সেমিফাইনালে স্বাগতিকদের ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল জার্মানরা।
এবারও একই স্কোরলাইনে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কুরাসাওর বিপক্ষে গোল উৎসবের এই ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দলের রেকর্ডও নিজেদের করে নিয়েছে জার্মানি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জার্মানি। বল দখল, পাসিং এবং আক্রমণের ধারায় প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চাপে রাখে তারা। কুরাসাওর রক্ষণভাগকে বারবার ভেঙে সুযোগ তৈরি করে জার্মান ফরোয়ার্ডরা।
যদিও ম্যাচের ২১তম মিনিটে লিভানো কোমেনেশিয়ার গোলে সমতায় ফিরেছিল কুরাসাও। সেই মুহূর্তে কিছুটা চমক দেখানোর আশা জাগলেও বাস্তবে এরপর আর কোনো সুযোগ পায়নি তারা।
জার্মানদের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে দলটি।
জয়ের নায়ক ছিলেন কাই হাভার্টজ। ম্যাচে দুটি গোল করে দলের বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। তার দ্বিতীয় গোলটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে সর্বাধিক গোলের রেকর্ড নিজেদের করে নেয় জার্মানি।
এই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে জার্মানির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯। অন্যদিকে দীর্ঘদিন শীর্ষে থাকা ব্রাজিল নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে, তাদের গোলসংখ্যা ২৩৮।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দেশের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। তাদের গোলসংখ্যা ১৫২। চতুর্থ স্থানে ফ্রান্স ১৩৬ গোল এবং পঞ্চম স্থানে ইতালি ১২৮ গোল নিয়ে অবস্থান করছে।
আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছে জার্মানি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে চারবার সাত বা তার বেশি গোল করার নজির এখন পর্যন্ত আর কোনো দেশের নেই। এই রেকর্ডও এককভাবে নিজেদের দখলে রেখেছে ইউরোপের শক্তিশালী দলটি।
বর্তমান জার্মান দলের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান। তরুণ এই কোচের অধীনে নতুন রূপে ফিরেছে জার্মানি। গতিময় ফুটবল, আক্রমণাত্মক কৌশল এবং দারুণ দলগত সমন্বয়ে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠেছে তারা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়া জার্মানির জন্য সময়টা ছিল হতাশার। সেই ব্যর্থতার পর অনেকেই দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে তারা দেখাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা।
প্রতিটি ম্যাচেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে জার্মানি। কুরাসাওর বিপক্ষে ৭ গোলের এই জয় তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে কুরাসাওর জন্য এটি ছিল বিশ্বকাপের প্রথম অভিজ্ঞতা। প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে অংশ নিয়ে তারা কিছু মুহূর্তে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও জার্মানির শক্তির সামনে টিকতে পারেনি।
শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে জার্মানি শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের রেকর্ড বইয়েও নিজেদের নাম নতুনভাবে লিখিয়েছে। আর সেই সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আবারও ফিরিয়ে এনেছে ২০১৪ সালের সেই অবিস্মরণীয় ৭-১ এর রাতের স্মৃতি।




























