
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি বাজারের চাপ মোকাবিলায় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যবহার কমাতে অনলাইন ক্লাস চালু এবং হোম অফিস ব্যবস্থার মতো বিকল্প নিয়ে সক্রিয়ভাবে ভাবা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং ডলার সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে নীতিনির্ধারক পর্যায়ে স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, আপাতত তিন মাসের একটি পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, সপ্তাহে নির্দিষ্ট সময় ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব গুরুত্ব পাচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয় আনা যায়। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো, বিদেশ সফরে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানোর বিষয়েও ভাবনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ইতোমধ্যে সরকারি অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম তদারকিতে বিশেষ নজরদারি দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব ফেলছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ এবং ব্যয়বহুল জ্বালানি ব্যবহার করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। তবে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ই এখন সরকারের প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার





























