
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে প্রতিরক্ষা মহলে নতুন আলোচনার ঝড় — আরেকটি ইউরোপীয় দেশ মার্কিন যুদ্ধবিমান F-35 প্রকল্প থেকে সরে এসে ফ্রান্সের রাফাল (Rafale) বেছে নিতে চলেছে বলে খবর নিশ্চিত হয়েছে।
ফ্রান্স নেতৃত্বে
বিভিন্ন ইউরোপীয় রাজধানীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিমান ঘাঁটিতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই খবর। সূত্রগুলো বলছে, অনেক দেশ এখন ব্যয়, প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব, সফটওয়্যার নির্ভরতা ও রক্ষণাবেক্ষণের বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
প্রতিদিন যুদ্ধবিমান সচল রাখা শুধু কৌশল নয়, একটি অর্থনৈতিক সমীকরণও। আর এই সমীকরণেই রাফাল অনেক দেশের কাছে বেশি যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে।
কেন রাফাল বেছে নেওয়া হচ্ছে
মার্কিন F-35 নিঃসন্দেহে প্রযুক্তিতে শক্তিশালী—তবে সফটওয়্যার আপডেট বিলম্ব, উচ্চ রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, এবং আমেরিকান নির্ভরতার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো পুনর্বিবেচনায় যাচ্ছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের রাফাল হচ্ছে একটি বহুমুখী (multi-role) ফাইটার জেট, দ্রুত সরবরাহযোগ্য এবং এর ডেটা ও সফটওয়্যার সম্পূর্ণভাবে ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে অনেক দেশ তাদের সামরিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে।
বাস্তবতা ও যুক্তি
গ্রিস ও ক্রোয়েশিয়া ইতিমধ্যেই রাফাল কিনেছে। গ্রিস একসঙ্গে F-35 ও রাফাল দুই প্রকল্পেই বিনিয়োগ করছে—যাতে মিশন ও সময়সূচি দুই দিকই সামঞ্জস্য থাকে।
রাফালের আরেকটি সুবিধা হলো এর প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা অনেকটা বিকেন্দ্রীকৃত (decentralised)। ফলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তা দ্রুত মোতায়েন করা যায়, যা ইউরোপের ভৌগোলিক বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্প ও রাজনৈতিক দিক
রাফাল কেনার সিদ্ধান্ত কেবল সামরিক নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপও। ফরাসি প্রতিরক্ষা শিল্প এতে নতুন গতি পাবে এবং FCAS (Future Combat Air System) প্রকল্পের জন্যও এটি একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।
যেসব দেশ স্থানীয় শিল্পে অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চায়, তাদের জন্য রাফাল এখন একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দেশ F-35 প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া এখন আর অবাক করার বিষয় নয়। বরং এটি একটি “বাস্তবসম্মত কৌশলগত সমন্বয়” (strategic recalibration)।
রাফাল ক্রেতা দেশগুলো বলছে—তারা এখন নিজেরাই ডেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, দ্রুত সরবরাহ পাচ্ছে, এবং খরচ পূর্বানুমান করা যাচ্ছে। অন্যদিকে F-35 ক্রেতারা বলছেন, তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে, তবে সময়ের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে।
সারসংক্ষেপ
ফ্রান্স যদি আরও একটি ইউরোপীয় দেশকে রাফাল বিক্রি করতে পারে, তবে ইউরোপের যুদ্ধবিমান বাজারে একটি ভারসাম্য তৈরি হবেযেখানে F-35 ও রাফাল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাফাল মানে শুধু একটি বিমান নয়, এটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা স্বাধীনতার প্রতীক।
যেভাবে এক কর্মকর্তা বলেছেন “সার্বভৌমত্ব কোনো স্লোগান নয়; এটি হচ্ছে আপনি কখন উড়বেন, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারা।”
কেন রাফাল এখন? দ্রুত সরবরাহ, ইউরোপীয় ডেটা নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষিত যুদ্ধক্ষমতা ফ্রান্সের অফারের নতুন গতির ব্যাখ্যা
F-35 এর চ্যালেঞ্জ সফটওয়্যার বিলম্ব, কেন্দ্রীভূত রক্ষণাবেক্ষণ, সরবরাহ জটিলতা বাস্তব অভিজ্ঞতার চিত্র তুলে ধরে
সিদ্ধান্তের সূত্র মিশন, খরচ, ঘাঁটির বাস্তবতা, শিল্পের সুবিধা নীতিনির্ধারকদের জন্য কার্যকর বিশ্লেষণ



























