
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক হামলায় ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্ত্রের মজুত এবং উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, তা দ্রুত পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে রাশিয়া সক্রিয়ভাবে এগিয়ে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া বর্তমানে ইরানকে উন্নত ড্রোন, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরণের শক্তিশালী বিস্ফোরকের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও সরঞ্জাম সরবরাহ করছে। এই সামরিক সহায়তা কেবল ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেই মজবুত করছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন এবং বিপজ্জনক সামরিক মেরুকরণ তৈরি করছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিমাদেশগুলোর গোয়েন্দা নথি এবং একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, রাশিয়ার দুই ডজনেরও বেশি কার্গো জাহাজ ক্যাস্পিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইরানের আমিরাবাদ বন্দরে এসব সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই পরিবহনে ব্যবহৃত অনেকগুলো রুশ জাহাজ ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসন এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, রাশিয়া থেকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং ছোট অস্ত্রের গোলাবারুদ সংগ্রহের এই প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের নিজস্ব উৎপাদন স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আঘাত দেশটির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান এবং রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এই দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিশেষ করে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার বাহিনী ইরানের সরবরাহ করা ‘শাহেদ’ ড্রোনকে আরও উন্নত করে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে এবং এখনও করছে। বিনিময়ে রাশিয়াও এখন ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা জোরদার করছে। যদিও ক্রেমলিন বরাবরই এই ধরণের সামরিক সহযোগিতার অভিযোগকে ‘ভুয়া খবর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সহযোগিতার গভীরতা এবং প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো যদি ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা পুনর্গঠনে এই ধরণের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতগুলোতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার এবং দীর্ঘস্থায়ী করার সুযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মজার বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ইরানকে এই ধরণের সামরিক সহায়তার বিষয়টিকে অতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি বা কৌশলগত কারণেই তা এড়িয়ে গেছেন। গত মাসেই তিনি দাবি করেছিলেন যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছেন যে মস্কো তেহরানের কাছে কোনো ধরণের অস্ত্র বিক্রি করছে না। এমনকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন, তখনো ট্রাম্প রুশ সহায়তাকে ‘খুবই অপ্রভাবশালী’ বলে মন্তব্য করে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করেছিলেন। এই ধরণের বিপরীতমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইরানের আসল সামরিক সক্ষমতা এবং রাশিয়ার প্রকৃত ভূমিকার বিষয়ে আরও বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ, রয়টার্স, আল জাজিরা।




























