
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী বহরের ৩৯টি জাহাজ আটক করেছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। তবে বাকি জাহাজগুলো এখনো গাজার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ জোট ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি অবস্থানকালে ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালিয়ে বহরের বেশ কয়েকটি জাহাজ ঘিরে ফেলে। পরে একে একে ৩৯টি জাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় তারা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার কোনো চেষ্টা তারা মেনে নেবে না। তাদের দাবি, এই বহরটি “উস্কানিমূলক কার্যক্রমে” জড়িত ছিল।
অন্যদিকে তুরস্ক এই ঘটনাকে “আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলের পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আঙ্কারা জানিয়েছে, বহরে থাকা তুর্কি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের ৪০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে মোট ৫৪টি জাহাজ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর থেকে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। বহরে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি মানবিক সহায়তা সামগ্রী ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ত্রাণ বহরের একটি জাহাজে থাকা অধিকারকর্মীরা জানান, তারা ভয় পাচ্ছেন না এবং গাজার মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তবে আটক জাহাজগুলোর যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগেও একই ধরনের ত্রাণবাহী বহর আটকে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। কয়েকটি ঘটনায় আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর অভিযোগ ওঠে।
গাজায় চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকটে লাখো মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। যদিও ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে।
সূত্র: Reuters




























