
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তান যদি ভারতের মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়া এবং সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে, তবে তাদের অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে। ইসলামাবাদকে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানকে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা বিশ্বের ভূগোলে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবে, নাকি চিরতরে ইতিহাসে বিলীন হয়ে যাবে। ভারতের সেনাপ্রধানের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য দুই পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
শনিবার দিল্লির মানেকশ সেন্টারে ‘ইউনিফর্ম আনভেইল্ড’ আয়োজিত ‘সেনা সংবাদ’ শীর্ষক এক বিশেষ ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে ভারতের সেনাপ্রধান এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন জেনারেল দ্বিবেদীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যদি সীমান্তে আবার তৈরি হয়, তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবার কীভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানাবে বা কী পদক্ষেপ নেবে। এই প্রশ্নের জবাবে ভারতের সেনাপ্রধান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন। তিনি সরাসরি পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমি আগেও যা বলেছি, আজও তা স্পষ্ট করছি। পাকিস্তান যদি ভারতের বিরুদ্ধে তাদের সীমান্ত পারের অপতৎপরতা সচল রাখে, তবে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের মুখে পড়বে।
ভারতের সেনাপ্রধানের এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো, যার কিছুদিন আগেই দুই দেশের সামরিক সংঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বার্ষিকী পার হয়েছে। গত বছরের মে মাসে দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের অভিযোগ ছিল, কাশ্মীরের পেহেলগামে একটি বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পেছনে ইসলামাবাদের সরাসরি হাত রয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে গত বছরের ৭ মে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ড এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কথিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও আস্তানা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও সামরিক হামলা চালায়, যা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত।
ভারতের এই আকস্মিক আক্রমণের পর পাকিস্তানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারাও পাল্টা সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে ভারতের অভ্যন্তরে পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। টানা ৮৮ ঘণ্টাব্যাপী চলে এই দুই দেশের মধ্যকার তীব্র সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ। বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর, গত বছরের ১০ মে সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এক বছর পর ভারতের সেনাপ্রধানের এই নতুন হুমকি প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো কতটা ভঙ্গুর ও বিস্ফোরক অবস্থায় রয়েছে।



























