
আওয়ার টাইমস নিউজ।
রহস্যময় গল্প: পৃথিবীর মানচিত্রে কিছু জায়গা আছে যেগুলো দেখলে মনে হয়, এখানেই বুঝি পৃথিবীর শেষ সীমা। চারপাশে বিশাল বরফ, তীব্র ঠান্ডা, প্রবল বাতাস আর নিঃসঙ্গতা। তবুও অবাক করার বিষয় হলো, এই চরম পরিবেশেও মানুষ বাস করে, জীবন গড়ে তোলে, আর নিজেদের মতো করে টিকে থাকে।
দক্ষিণ গোলার্ধে গেলে এমনই এক বিস্ময়কর জায়গার নাম আর্জেন্টিনার উশুইয়া। টিয়েরা দেল ফুয়েগো অঞ্চলে অবস্থিত এই শহরটিকেই সাধারণভাবে পৃথিবীর সবচেয়ে দক্ষিণের শহর হিসেবে ধরা হয়। প্রায় ৮৩ হাজার মানুষের এই শহরকে অনেকে “ফিন দেল মুন্দো” বা পৃথিবীর শেষ প্রান্তও বলে থাকে।
উশুইয়ার চারপাশে পাহাড়, সমুদ্র আর বরফের মিশ্রণ এটিকে এক ভিন্ন রূপ দিয়েছে। পর্যটকদের জন্য এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের জাহাজও এখান থেকেই যাত্রা শুরু করে। এত দূরে অবস্থান করেও এখানে আধুনিক জীবনযাত্রা, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং মানুষের ব্যস্ততা চোখে পড়ে। মনে হয় যেন পৃথিবীর প্রান্তে এসেও জীবন থেমে নেই।
তবে দক্ষিণের দিকে আরেকটি ছোট জায়গা আছে চিলির পুয়ের্তো উইলিয়ামস। জনসংখ্যা কম হলেও এটি ভৌগোলিকভাবে আরও দক্ষিণে অবস্থিত। তারপরও জনসংখ্যা ও শহরের স্বীকৃতির কারণে উশুইয়াকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এবার যদি পৃথিবীর উত্তর প্রান্তে যাই, সেখানে পরিস্থিতি আরও কঠিন। কানাডার একেবারে উত্তরে নুনাভুট অঞ্চলের অ্যালার্ট নামের একটি জায়গা আছে, যেখানে কিছু মানুষ কাজের জন্য থাকেন, কিন্তু এটি স্থায়ী শহর হিসেবে ধরা হয় না।
এর কিছুটা দক্ষিণে নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লংইয়ারবাইন। এটিকে পৃথিবীর অন্যতম উত্তরের শহর বলা হয়। এখানে জীবন খুবই কঠিন। শীতের সময় বাইরে বের হলে মেরুভালুকের ভয় থাকে, তাই অনেক সময় অস্ত্র সঙ্গে রাখতে হয়। এমনকি এখানে একটি অদ্ভুত নিয়ম আছে, শহরের ভেতরে কাউকে কবর দেওয়া যায় না।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরের শহর হিসেবে ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার উটকিয়াগভিককে। আগে এটি ব্যারো নামে পরিচিত ছিল। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের এই শহর সুমেরু বৃত্তের অনেক ওপরে অবস্থিত। এখানকার জীবন সত্যিই চরম। শীতকালে প্রায় ৬৫ দিন সূর্য ওঠে না, চারপাশ অন্ধকারে ঢেকে থাকে। আবার গ্রীষ্মকালে টানা আড়াই মাস সূর্য অস্ত যায় না, রাতেও আলো থাকে দিনের মতো।
এই চরম পরিবেশে ইনুপিয়াত আদিবাসীরা বহু বছর ধরে বসবাস করে আসছে। তারা তিমি শিকারসহ নানা উপায়ে নিজেদের জীবন টিকিয়ে রেখেছে। আধুনিক জীবনযাত্রা থাকলেও প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করেই তাদের দিন কাটে।
অদ্ভুত বিষয় হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তরের এবং সবচেয়ে দক্ষিণের এই দুই শহরই আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। মানচিত্রে দেখলে মনে হয়, এই দুই প্রান্ত যেন এক বিশাল গল্পের শুরু আর শেষ চিহ্নিত করছে।
পৃথিবীর এই দুই প্রান্ত আমাদের একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে দেয়। মানুষ যতই চরম পরিবেশে যাক না কেন, তারা বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নেয়। বরফ, অন্ধকার কিংবা দূরত্ব কোনো কিছুই মানবজীবনের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারে না।


























