
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মতো অপরাধ দমনে কঠোর আইন কার্যকর রয়েছে। কোথাও দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, কোথাও আজীবন সাজা, আবার কিছু দেশে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডের বিধান। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নৃশংস যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অনেক দেশ শাস্তির মাত্রা আরও কঠোর করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ধর্ষণের শাস্তি সবচেয়ে কঠোর বলে বিবেচিত হয়। সৌদি আরব, ইরান, আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত কার্যকর করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত বিচার শেষে কঠোর শাস্তি কার্যকর হওয়ার নজিরও রয়েছে।
পাকিস্তানে শিশু ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সরকার যৌন অপরাধ দমনে নতুন আইন ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
চীনেও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। অপরাধের ভয়াবহতা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। উত্তর কোরিয়াতেও এ ধরনের অপরাধে কঠিন শাস্তির কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের শাস্তি অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহু বছরের কারাদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। শিশু নির্যাতন বা সহিংস ধর্ষণের ঘটনায় শাস্তি আরও কঠোর হয়। জাপানে ধর্ষণের ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে এবং গুরুতর ঘটনায় আজীবন সাজাও হতে পারে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ধর্ষণবিরোধী আইন আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও জার্মানির মতো দেশে সম্মতি ছাড়া যেকোনো যৌন সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব দেশে ধর্ষণের ঘটনায় দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর সুরক্ষায় বিশেষ আইনও কার্যকর রয়েছে।
ভারতেও শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস যৌন সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। দেশটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কঠোর আইন করলেই অপরাধ কমে না। দ্রুত বিচার, সঠিক তদন্ত, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি। অনেক দেশে এখন ধর্ষণ মামলার তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষা, ডিজিটাল প্রমাণ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।


























