
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী কর্তৃক এক মুসলিম ব্যক্তিকে একটি বহুতলা ভবনের দোতলা থেকে নিচে ফেলে দিয়ে হত্যার চেষ্টার একটি লোমহর্ষক ভিডিও এবং ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অমানবিক এই দৃশ্যটি জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, একের পর এক এমন ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র সামনে আসার পরও কেন দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে? সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য। গত ১২ মে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে মুসলিম নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো কিছু ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, ভারতে বড় ধরনের কোনো নির্যাতনের ঘটনা এখনো তাদের নজরে আসেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসার পরপরই ভারতে নতুন করে এই নির্যাতনের দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসায় দেশের সচেতন মহলে বড় ধরনের অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মুসলমানরা বলছেন, চোখের সামনে যখন সরাসরি ভিডিও ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ভবন থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে, তখন সরকারের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য হতাশাজনক। তারা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চলা এই অবিচার ও সহিংসতাকে কেবল ‘পুরোনো ছবি’ বা ‘বিভ্রান্তি’ বলে উড়িয়ে দেওয়া বাস্তবতা অস্বীকার করার শামিল। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন, সাধারণ নাগরিকরা যদি ইন্টারনেটের মাধ্যমে এসব অমানবিকতার প্রমাণ দেখতে পায়, তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গোয়েন্দা সংস্থা বা কূটনৈতিক সূত্রগুলো কেন এই সংবাদ তার কাছে পৌঁছাতে পারছে না?
বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের খাতিরে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন থাকলেও, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে উগ্রবাদী তৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও বাস্তব পরিস্থিতির সমন্বয় না ঘটলে জনমনে সরকারের অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



























