
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আবার আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুক্তিযুদ্ধ, নারী নেতৃত্ব, ইসলামি আইন, গণতন্ত্র এবং সংখ্যালঘু ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আল জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শীর্ষক সাক্ষাৎকারটি নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। সাক্ষাৎকারের শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জামায়াত আবার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
সাক্ষাৎকারে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সে সময় জামায়াতের অবস্থান ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কোনো সশস্ত্র কর্মকাণ্ড নয়। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বাহিনীর সঙ্গে সংগঠনগতভাবে জামায়াত জড়িত ছিল না। বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচনে তাদের দল থেকে কোনো নারী প্রার্থী না থাকলেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে নারী থাকার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শারীরিক ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে কিছু দায়িত্ব নারীদের পক্ষে পালন করা কঠিন।
বাংলাদেশে ইসলামি আইন চালু করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সিদ্ধান্ত নয়। দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে সংসদই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির দাবি করেন, এসব ঘটনায় জামায়াত জড়িত ছিল না এবং আদালতে এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনেরও সমালোচনা করেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ধরনের ভাঙচুর, হুমকি বা দমনমূলক বক্তব্য জামায়াত সমর্থন করে না। শিক্ষার্থীদের সংগঠন নিয়ে ওঠা বিতর্কের ক্ষেত্রেও তিনি বলেন, ভুল হলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ছাত্রসংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ জামায়াতপন্থী রাজনীতির প্রতি আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
ভারত সংক্রান্ত প্রশ্নে জামায়াত আমির বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

























