
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতির শক্তিধর দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কিন্তু একই সঙ্গে দেশটিকে ঘিরে আস্থার সংকটও বারবার সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক ইরান ইস্যু ঘিরে আবারও সেই পুরনো প্রশ্ন জোরালো হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা বিশ্বাস করা যায়?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অবিশ্বাসের পেছনে বড় কারণ হলো অতীতের অভিজ্ঞতা। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে সেগুলো থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের প্রতি আস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়েছে।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল, যা দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র সেই চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে দাঁড়ায়। এতে শুধু ইরানই নয়, বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয় এবং আস্থার বড় ধাক্কা লাগে।
ইতিহাস আরও পেছনে নিলে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ আশার আলো দেখেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ইতিহাসেও একই ধরনের চিত্র রয়েছে। দেশটির আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে করা বহু চুক্তি সময়ের সঙ্গে ভঙ্গ হয়েছে, যা ইতিহাসবিদদের কাছে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান ইরান পরিস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেখা হচ্ছে। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে চাপ ও সামরিক অবস্থান—এই দ্বৈত নীতির কারণে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে ইতিহাস বলছে, শুধু কথার ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পদক্ষেপের দিকে নজর দেওয়াই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আস্থার প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম




























