
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে আবারও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাজারে উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।
বৃহস্পতিবার ভোরের লেনদেনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বহুল ব্যবহৃত আরেক মানদণ্ডের তেলের দাম ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৩ ডলারে ওঠে। যদিও পরে কিছুটা সংশোধন হয়ে দাম সামান্য কমে আসে, তবুও সার্বিকভাবে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই স্পষ্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের উত্থানের পেছনে প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ফেলে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকা এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালি খোলার বিষয়ে অনাগ্রহ বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এতে করে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই আশঙ্কাই বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত রাখছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের বাজার অনেকটাই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সামরিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যতদিন না স্থায়ী সমাধান আসছে, ততদিন এই অস্থিরতা এবং দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম




























