
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর তুলনামূলক বেশি করের চাপ পড়বে বলে মন্তব্য করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। একই সঙ্গে সংস্থাটি রাজস্ব ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সংকটকে বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক বাজেট পর্যালোচনা সংলাপে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন আয়কর কাঠামো অনুযায়ী বছরে ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা করযোগ্য আয় রয়েছে এমন ব্যক্তিদের করের দায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের করের বোঝা তুলনামূলক কম বৃদ্ধি পাবে। তার মতে, এটি কর ব্যবস্থার ন্যায়সংগত বণ্টনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কার্যকর মুদ্রানীতির প্রয়োজন রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সিপিডি জানায়, বিপুলসংখ্যক নতুন চাকরি সৃষ্টির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। শ্রম, শিল্প, বাণিজ্য ও প্রবাসী কল্যাণ খাতের বরাদ্দও প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে মন্তব্য করা হয়।
সংলাপে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন সময় পার করছে এবং স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকিতে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে।
অংশগ্রহণকারীরা বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।



























