
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সিরিয়া থেকে নিজেদের শেষ সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় এক দশক ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির ইতি টেনে দেশটির হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক ঘাঁটি ত্যাগের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মার্কিন বাহিনী ঘাঁটি ছেড়ে যাওয়ার পরপরই সেখানে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী প্রবেশ করে এবং নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিতে একটি বিমান সুবিধাও ছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক বাস্তবতা বদলানো এবং নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হওয়ায় ধাপে ধাপে তাদের উপস্থিতি কমানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহারের সময় বিকল্প রুট ব্যবহার করে সেনাদের নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে ওই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর হাতে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এসডিএফ ও সিরীয় সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার ফলে কুর্দি যোদ্ধারা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধীনে কাজ করতে সম্মত হয়। এই সমঝোতাকে মার্কিন প্রত্যাহারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত থেকে সরে আসার কৌশলের অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: Middle East Eye, NDTV, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম





























