
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকায় উদ্বেগজনক এক চিত্র সামনে এসেছে, অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসে হামে আক্রান্ত হচ্ছে অনেক শিশু। অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে এমন বাস্তবতা উঠে এসেছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য জটিলতা নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুরা চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই হামে সংক্রমিত হচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে ১৬ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। হাসপাতালের ভেতরে রোগী আলাদা করে ব্যবস্থাপনা না করা হলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হাম করোনার চেয়েও দ্রুত ছড়াতে পারে। টিকা নেওয়ার পরও তা কার্যকর হতে কিছু সময় লাগে, তাই সংক্রমণ ঠেকাতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা জোরদার করা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু আগে থেকেই অন্য রোগে ভুগছে—যেমন হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা বা রক্তের রোগ, তাদের ক্ষেত্রে হামের ঝুঁকি ও জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই আক্রান্ত শিশুরা টিকাবঞ্চিত থাকছে।
এদিকে হামের বিস্তার রোধে সারা দেশে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা, হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।




























