
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার একটি পরিবারে আজ থাকার কথা ছিল আনন্দের পরিবেশ। নতুন বউকে ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল, আত্মীয়-স্বজনও অপেক্ষায় ছিলেন নববধূকে বরণ করে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই আনন্দকে পরিণত করেছে গভীর শোকে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নববধূকে নিয়ে ফিরছিল একটি মাইক্রোবাস। পথে নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই শুরু হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। দুর্ঘটনায় বর-কনে সহ দুই পরিবারের মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা ও মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন স্বজন। তাদের মধ্যে শিশু ও গাড়িচালকও ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর গভীর রাতে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের মরদেহ মোংলায়, কয়েকজনের মরদেহ কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ রামপালে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিহত বরের ভাই জনি বলেন, এক মুহূর্তেই তাদের পরিবারের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় পরিবারের অনেক সদস্যকে হারিয়ে তিনি এখন একা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহতদের গোসল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং জুমার নামাজের পর তাদের জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হবে। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বহু মানুষ অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।






























