
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের বাগবাড়ী এলাকায় চল্লিশ হাজার মানুষের ঈদযাত্রাকে প্রভাবিত করা ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের লাইনচ্যুতির ঘটনা ২১ ঘণ্টা পর মূল রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশন ত্যাগের পরই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল কাজ শুরু করে। ঈশ্বরদী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি আলাদা রিলিফ ট্রেন এসে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ৯টি কোচের মধ্যে ৪টি কোচ উদ্ধার করে ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছে, বাকি ৫টি কোচ সরানোর কাজ এখনও চলমান।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, “লাইনটি বর্তমানে চলাচলের জন্য উপযোগী হলেও দুর্ঘটনাস্থলে ট্রেনগুলো অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। রেললাইনের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পাশাপাশি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রেলওয়ে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে রেললাইনের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে দেশের মানুষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ে সকল ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।






























