
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সাদ্রা দরবার শরিফসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় পীরজাদা, মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে ঈদের দিনে প্রার্থনা ও আনন্দের দৃশ্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরিফের মূল মাঠে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার মাঠে আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী। উভয় জামাতে মুসল্লিরা ধারাবাহিকভাবে নামাজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঈদ উদ্যাপন করা গ্রামগুলোর মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর, বাসারা; ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, পাইকপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলব উপজেলার দশানি, মোহনপুর, পাঁচানী; এবং কচুয়া উপজেলার আংশিক গ্রাম অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদ্যাপনের প্রথা চালু করেছিলেন। সেই থেকে তার অনুসারীরা চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একই সঙ্গে দুই ঈদ উদ্যাপন ও রোজা পালন করে আসছেন। প্রথমে জামাতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কম হলেও বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্রামে ঈদ উদ্যাপন হচ্ছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী জানান, এই প্রথা মূলত মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়সূচির সমন্বয় সাধন করে। তিনি বলেন, “১৯২৮ সাল থেকে আমাদের পীরবৃন্দ সৌদি আরবসহ অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং রমজানের রোজার সময় নির্ধারণ করেছেন। এর ফলে আমাদের অনুসারীরা সারাবছর ইসলামের মৌলিক বিধি ও রীতিনীতি মেনে চলতে সক্ষম হচ্ছেন।”
ঈদ উদ্যাপনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যাপন শুধু ধর্মীয় আচার পালনেই সাহায্য করছে না, বরং স্থানীয়দের মধ্যে সামাজিক ঐক্য, নৈতিক শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মানও বৃদ্ধি করছে। বিশেষ করে হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া উপজেলার গ্রামবাসীরা পীর ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা ও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শুধু ধর্মীয় জ্ঞানই দেন না, বরং নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, আদব ও সামাজিক দায়িত্বের শিক্ষা প্রদান করেন। এই কারণে গ্রামের মানুষরা তাদের সন্তানদের মাদ্রাসায় পাঠানোর প্রতি উৎসাহী।
ঈদের দিন স্থানীয় বাজার ও রাস্তা সাজানো থাকে, বিভিন্ন গ্রামের মানুষরা জামাতের পর একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। শিশুদের মধ্যে বিশেষ আনন্দের ছটা দেখা যায় এবং পরিবারের সদস্যরা একত্রে মিলিত হয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।
চাঁদপুরের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঐতিহ্য ধারাবাহিকভাবে পালন করা হলে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় সচেতনতা ও ঐক্য আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।





























