
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশজুড়ে গরমের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। রাজধানীর তুলনায় মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেশি। কোথাও কোথাও দিনে ও রাতে মিলিয়ে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি সংকট, কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের কারণে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না। ফলে জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং সেই ঘাটতি মেটাতে লোডশেডিং বাড়ানো হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলাকায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কিছু জেলায় এই ঘাটতি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে জানা যায়।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ চাহিদার সময় দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি কয়েকশ থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি পর্যন্ত উঠছে। উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহে অস্থিরতা এবং কিছু ইউনিট বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।
তারা আরও জানান, বন্ধ থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ধীরে ধীরে চালুর চেষ্টা চলছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে লোডশেডিং পরিস্থিতির উন্নতি দ্রুত হবে না।
এদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রচণ্ড গরমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।





























