
আওয়ার টাইমস নিউজ।
মুসলিম বিশ্ব ডেস্ক: ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক বিতর্কিত রায়ে ঐতিহাসিক ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে হিন্দু দেবী বাগদেবীর (সরস্বতী) মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, এই চত্বরে এখন থেকে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই পূজা-অর্চনা করার অধিকার পাবেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা প্রথা অনুযায়ী মুসলিমরা সেখানে যে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন, নতুন এই রায়ের ফলে সেই অধিকার সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়ে গেছে। শুক্রবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও আইনি বিবাদে নতুন মাত্রা যোগ করলো।
আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো স্থাপনাটি প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ বা এএসআই-এর (ASI) তত্ত্বাবধানে থাকলেও এর ভেতরে ধর্মীয় আচার পালনের একক অধিকার হিন্দু পক্ষের কাছেই থাকবে। রায় প্রদানের সময় আদালত উল্লেখ করেছে যে, মুসলিম সম্প্রদায় যদি বিকল্প কোনো স্থানে মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন মনে করে, তবে তারা রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়ে আবেদন করতে পারবে। সরকার সেই আবেদন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে রায়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে প্রশাসন নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা সেখানে পূজা এবং প্রতি শুক্রবার মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করে আসতেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উভয় পক্ষের দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হিন্দু পক্ষ দাবি করে আসছে যে, ১০১০-১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ভোজের আমলে এখানে একটি সরস্বতী মন্দির ও সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র ছিল। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের দাবি অনুযায়ী, এটি সুফি সাধক কামালউদ্দিনের পবিত্র দরগা ও কামাল মাওলা মসজিদ। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তথ্যানুসারে, চতুর্দশ শতকে এই স্থাপনাটি গড়ে ওঠে। হাইকোর্ট মূলত এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা এবং ঐতিহাসিক নথিপত্র পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এই স্থানটি এক সময় সংস্কৃত চর্চার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
আদালতের এই রায় কার্যকর করার পাশাপাশি ওই এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মধ্যপ্রদেশ সরকারকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্রিটিশ মিউজিয়াম বা লন্ডনের জাদুঘরে থাকা সরস্বতী মূর্তিটি পুনরায় ভোজশালায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে আদালত। ১৯৫৮ সালের সংরক্ষিত স্থাপত্য আইন অনুযায়ী স্থাপনাটি বর্তমানে এএসআই-এর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মুসলিমদের প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে মুসলিম পক্ষ এখন সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




























