
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা সংকট উপসাগরীয় দেশগুলোকে নতুন জ্বালানি কৌশল নিতে বাধ্য করছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল থাকা দেশগুলো এখন বিকল্প স্থলপথ তৈরিতে জোর দিচ্ছে। পাইপলাইন, রেলপথ ও নতুন বন্দরভিত্তিক অবকাঠামোকে সামনে রেখে বদলে যাচ্ছে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা।
বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল এতদিন হরমুজ প্রণালি দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাত, ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এবং জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই বাস্তবতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলো সমুদ্রপথের বিকল্প ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ শুরু করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে ওমান উপসাগরমুখী ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে তেল পাইপলাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল পাঠানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। বর্তমানে এই রুট ব্যবহার করে দেশটি নিরাপদে তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।
শুধু পাইপলাইন নয়, আঞ্চলিক রেল নেটওয়ার্কও দ্রুত সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও তেলক্ষেত্রকে রেললাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এতে তেল ছাড়াও পেট্রোকেমিক্যাল, সার ও শিল্পপণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান সংকটে ভারত মহাসাগরমুখী বন্দরগুলোর গুরুত্বও বেড়েছে। বিশেষ করে আমিরাতের ফুজাইরাহ ও খোরফাক্কান বন্দর এবং সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলীয় অঞ্চল এখন বিকল্প জ্বালানি করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ঝুঁকি যত বাড়বে, উপসাগরীয় দেশগুলো তত বেশি স্থলভিত্তিক জ্বালানি ও বাণিজ্য রুটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠবে। যদিও কিছু জ্বালানি পণ্য এখনো পুরোপুরি সমুদ্রপথনির্ভর, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য ন্যাশনাল ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন




























