
আওয়ার টাইমস নিউজ।
অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর স্বর্ণের দামে ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই দরপতন সাময়িক নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে স্বর্ণের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও গত কয়েক মাসে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন শুরু হয়েছে। সর্বশেষ একদিনেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি দরপতনের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে।
প্রথমত, অতীতের বাজারচক্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্বর্ণের দামে বড় উত্থানের পর প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন বা দরপতন দেখা দেয়। ২০০৮ থেকে ২০১১ এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মূল্যবৃদ্ধির পরও বাজারে উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছিল। এবারও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দ্বিতীয়ত, বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের প্রকৃত চাহিদা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বড় দুটি বাজার চীন ও ভারতে স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ ক্রয়ের গতি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। স্বর্ণভিত্তিক বিনিয়োগ তহবিলেও বিনিয়োগ কমে এসেছে। ফলে বৈশ্বিক চাহিদায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তৃতীয়ত, মার্কিন মুদ্রানীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণবাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার সম্ভাবনা বাড়ছে। সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। ফলে বাজারে স্বর্ণের দাম চাপের মুখে পড়ে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের দাম এখনও তুলনামূলক উচ্চ অবস্থানে থাকলেও সামনে আরও দরপতনের ঝুঁকি রয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা, সুদের হার এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে মূল্যবান এই ধাতুর ভবিষ্যৎ গতিপথ।
সূত্র: রয়টার্স, এনটিভি অনলাইন




























