
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: অ-মানুষ এলিয়েন মেসির অবিশ্বাস্য ৭ মিনিটের বিধ্বংসী সুনামিতে লন্ডভন্ড ব্রিটিশ রাজ্য, ইতিহাস গড়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, ম্যাচের ৮৩ মিনিট পর্যন্ত যেন সবকিছুই ইংল্যান্ডের পক্ষে ছিল। এক গোলে এগিয়ে থেকে ধীরে ধীরে ফাইনালের স্বপ্ন বুনছিল থ্রি লায়ন্স।
গ্যালারিতে ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাস তখন আকাশ ছুঁয়েছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের চোখেমুখে ছিল হতাশা। কিন্তু ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে লিওনেল মেসি থাকলে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কিছুই শেষ হয়ে যায় না।
ম্যাচ যখন আর্জেন্টিনার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, তখনই যেন অন্য এক রূপে আবির্ভূত হলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকা। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে নিজের অসাধারণ ফুটবল মেধা, নিখুঁত দৃষ্টিশক্তি এবং অবিশ্বাস্য দুটি অ্যাসিস্টে ম্যাচের পুরো চিত্রই বদলে দেন তিনি।
প্রথম আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে কয়েকজন ইংলিশ ডিফেন্ডারের মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নেন মেসি। এরপর চোখ ধাঁধানো এক থ্রু পাসে সতীর্থকে একেবারে গোলরক্ষকের সামনে পৌঁছে দেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতাসূচক গোল করে আর্জেন্টিনা।
ইংল্যান্ড তখনও ধাক্কা সামলে ওঠার সুযোগ পায়নি।
ঠিক কয়েক মিনিট পর আবারও শুরু হয় মেসির জাদু। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বিভ্রান্ত করে আরেকটি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন তিনি। সেই পাস থেকেই আসে জয়সূচক গোল। মুহূর্তেই নীরব হয়ে যায় ইংল্যান্ডের গ্যালারি, আর উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।
মাত্র সাত মিনিটে দুই অ্যাসিস্ট করে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন মেসি। গোল না করেও তিনিই হয়ে ওঠেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক।
পুরো ম্যাচজুড়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা তাকে ঘিরে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে তার ফুটবল বুদ্ধিমত্তা, নিখুঁত পাস এবং অসাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার সামনে অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষ।
এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। একই সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে মেজর টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে মেসির অপরাজিত যাত্রা আরও এক ধাপ দীর্ঘ হয়।
এটি ছিল মেসির অষ্টম মেজর সেমিফাইনাল। অবিশ্বাস্যভাবে আটবারই দলকে ফাইনালে তুলতে সক্ষম হলেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা অত্যন্ত বিরল।
বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম ম্যাচ শেষে মেসির পারফরম্যান্সকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, গোল না করেও কীভাবে একটি ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তার অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে এই সেমিফাইনাল।
৩৯ বছর বয়সেও মেসি আবারও দেখিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচের চাপই যেন তাকে আরও ভয়ংকর করে তোলে।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। আর কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকবে সেই মানুষটির দিকে, যাকে অনেকেই ভালোবেসে ডাকেন “ফুটবলের এলিয়েন”।




























