
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারক ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর গত ১৫ দিনে মার্কিন বাহিনীর ওপর চালানো তোলপাড় করা হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, পাল্টাপাল্টি এই সংঘাতের দুই সপ্তাহে তাদের হামলায় অন্তত ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও অসংখ্য সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ দাবি করেন। তিনি ক্ষোভের সাথে ওয়াশিংটনের দেওয়া সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “পেন্টাগনের প্রকাশিত হতাহতের তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা নিজেদের জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।”
আইআরজিসির তথ্যমতে, ‘অপারেশন নাসর-২’ (বা অপারেশন ভিক্টরি-২) এর আওতায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মোট ৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁত নিশানা ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটিমাত্র ঘাঁটিতেই অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান সংরক্ষণাগার (হ্যাঙ্গার) ধ্বংস হয়ে যায়। ইরানি বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান, গোয়েন্দা ড্রোন এবং মার্কিন নৌবাহিনীর ভারী সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর সামনে এসেছে।
তেহরানের সামরিক মুখপাত্র চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নিজেদের সত্যি বলে দাবি করে, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকদের যেন অনতিবিলম্বে ওই ধ্বংসপ্রাপ্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যাওয়ার এবং হতাহতের সংখ্যা সরেজমিনে হিসাব করার সুযোগ দেওয়া হয়।
যদিও পেন্টাগনের পক্ষে প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরে প্রাণহানির বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে-ইরানের এই পাল্টা আঘাত মার্কিন মিত্রদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। বিশ্বের বুকে নিজেদের সামরিক শক্তিমত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রমাণ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে বদ্ধপরিকর তেহরান। সার্বিক পরিস্থিতিতে মার্কিন ও তাদের মিত্র জোটকে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম




























