
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। কিন্তু নির্বাচনি মাঠে দুই ভোট ঘিরে স্পষ্ট ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনে জোরালো প্রচার চললেও গণভোট প্রশ্নে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। দলীয়ভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান থাকলেও কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা।
বিএনপির একাধিক তৃণমূল নেতা জানিয়েছেন, ভোট চাইতে গেলে ভোটাররা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না ‘না’-এ বিষয়ে প্রশ্ন করছেন। কিন্তু নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় তারা স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না। ফলে অনেক জায়গায় কেবল দলীয় প্রতীক ধানের শীষে ভোট চাওয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকছে প্রচার।
এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় জোট গণভোটকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচনি সভা, লিফলেট, ব্যানার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরব ভূমিকা পালন করছে। অনেক প্রার্থী দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচার জোরদার করেছে। সরকারের উপদেষ্টারা বিভিন্ন জেলায় সফর করছেন এবং রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল গণভোট প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। কিন্তু বিএনপির নীরবতা ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, গণভোট উপেক্ষিত হলে তরুণ ভোটারদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থেই দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান জরুরি।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাবে গণভোট প্রশ্নে তৃণমূলে বিভ্রান্তি কাটেনি। অন্যদিকে মাঠ দখলে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত–এনসিপিসহ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকা জোটগুলো।

























