
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রণালি আর আগের মতো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। ইরানের স্বার্থবিরোধী দেশ ও শক্তিগুলোর জন্য এই সমুদ্রপথ সীমিত বা বন্ধ রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত রাত থেকে সীমিত সংখ্যক জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্তত ৩০টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করা হলেও কোন কোন দেশের জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ জানিয়েছে, অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ও কৌশলগত অবস্থান বিবেচনায় রেখেই ইরান নতুন এই নীতি বাস্তবায়ন করছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধও থাকবে না, আবার আগের মতো পুরোপুরি উন্মুক্তও থাকবে না। নতুন ব্যবস্থাপনায় বিদেশি জাহাজের ওপর বিশেষ ট্রানজিট ফি বা মাশুল আরোপের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন অবস্থান সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে পারস্য উপসাগর ও আশপাশের অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।



























