
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: শরীয়াহভিত্তিক আদর্শ নিকাহ ও কনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরো–র প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। রোববার ঢাকার আটিবাজার এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, কাসেমীর স্ত্রী তামান্না হাতুনের পক্ষে তার মামি আন্না পারভীন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন তামান্না। তিনি দাবি করেন, দেড় বছরের সংসারজুড়ে মানসিক ও শারীরিক সহিংসতা ছিল নিয়মিত ঘটনা। তার অভিযোগ, তালাকের পর কাসেমী তাকে জোর করে আটকে রাখেন, নির্যাতন করেন এবং গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেন।
তিনি লেখেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমাকে এই জায়গায় আসতে হবে। প্রথমে এক সপ্তাহ আটকে রেখেছিল, পরে আবার চারতলায় বন্দি করে রাখে। চিৎকার করলেও সবাইকে বলত, আমার নাকি মাথায় সমস্যা। শরীরে আজও দাগ রয়ে গেছে।”
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তামান্না আরও বলেন, “অনেক চেষ্টা করেছি বিষয়টি আপসে মেটাতে। বড় বড় ওলামাদের কাছেও গেছি, কিন্তু কেউ সমাধান দেয়নি। তাই আইনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছি।”
তার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি এসেছে শেষের দিকে,
“শুধু নাস্তিকদের বিরুদ্ধে নয়, যারা আলেম নামধারী হয়ে ধর্মকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধেও মুখ খুলব। আল্লাহর আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ করলে কেউ ছাড় পাবে না।”
তার এ বক্তব্যের পর বিষয়টি অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলমান সময়ের ‘নাস্তিকতা বিতর্ক’ ও ধর্মের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র আলোচনার মাঝেই এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এ ঘটনায় কাসেমীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























