
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের জন্য এক ধরনের কঠিন পরীক্ষার সঙ্গে তুলনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর ভাষায়, এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ উদার গণতান্ত্রিক ধারায় থাকবে, নাকি উগ্রপন্থী ও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির হাতে চলে যাবে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য বিজয় আঁচ করেই একটি মহল নানা ধরনের অপচেষ্টা শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা অতীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করেনি এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের মানুষ এবার উদার ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নেবে। তাঁর মতে, সামনের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে হলে তা সরল ও স্বচ্ছ পথে করা উচিত। ধর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে ভোট আদায়ের প্রচেষ্টাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, কিন্তু সেই সময়ও কিছু গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করেছিল, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, এখনও সেই একই শক্তি ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
নির্বাচন হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যাদের জনগণের সমর্থন নেই, তারাই অহেতুক হুমকি ও গলাবাজি করছে। জনগণ যদি বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়, তবে দল সরকার গঠন করবে, আর না চাইলে বিরোধী দল হিসেবেই ভূমিকা পালন করবে, এটাই গণতন্ত্রের নিয়ম।
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, বিএনপি অনেক আগেই সেসব প্রস্তাব দিয়েছিল। সব বিষয়ে একমত না হলেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে অনেক আপসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এসব বিষয় সংসদেই চূড়ান্তভাবে আলোচিত ও নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।




























