
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার স্বপ্নই হয়ে উঠল মৃত্যুর ফাঁদ। ভয়াবহ সেই যাত্রায় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, যাদের সবার বাড়ি সুনামগঞ্জে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দালালের মাধ্যমে একটি রাবারের বোটে করে তারা গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু মাঝপথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, মৃতদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দিতে বাধ্য হন জীবিতরা।
গ্রিসে থাকা এক বাংলাদেশি যুবক জানান, ২৭ মার্চ সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাদের। উদ্ধার হওয়া দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নুরুজ্জামান সরদার ময়না, সাজিদুর রহমান, সাহান এহিয়া ও মুজিবুর রহমান রয়েছেন। এছাড়া দোয়ারাবাজার উপজেলার আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়ক আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, উন্নত জীবনের আশায় দালালের সঙ্গে প্রায় ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তারা দেশ ছাড়েন। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির একটি অংশ পরিশোধও করা হয়। কিন্তু এরপরই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গ্রিসে থাকা পরিচিতজনদের মাধ্যমে আসে মৃত্যুর করুণ খবর।
এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায়। পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে এখন সেখানে শুধু কান্না আর অপেক্ষা, প্রিয়জনের কোনো খোঁজ পাওয়ার আশায়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করে বিস্তারিত নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।





























