
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দিতে নিরপেক্ষতা থেকে সরে আসছে, এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ও ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন আইন ও নৈতিকতার প্রশ্নে আপস করছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি বড় রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
হাসিব আল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বর্তমান কমিশনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তে সেই নিরপেক্ষতার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যাদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ঋণখেলাপির সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়ন বাতিল করা উচিত বলেও দাবি করেন তিনি।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এমপি বা মন্ত্রী হলে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণ আনুগত্য থাকা জরুরি। অথচ যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সেই নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঋণখেলাপি প্রার্থীদের ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের শর্তে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে, ঋণ পরিশোধের অর্থের উৎস কী হবে এবং এর দায় কে নেবে।
সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব জনগণকে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন উপহার দেওয়া। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই দায়িত্ব পালনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি অবিলম্বে দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।




























