
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবন, অসংখ্য সুখ-দুঃখ আর না বলা কষ্টের গল্প রেখে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন ছোটপর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরা। তবে মৃত্যুর মুহূর্তে তার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ছিল একটাই, একমাত্র সন্তান রিজিকের মুখটি শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না পাওয়া।
ইকরার মৃত্যুর পর হাসপাতালজুড়ে তৈরি হয় এক বেদনাবিধুর পরিস্থিতি। মর্গে পড়ে থাকে তার নিথর দেহ, অথচ দীর্ঘ সময়েও স্বামীর পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত হননি। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, ইকরার আদরের সন্তান রিজিককেও মায়ের কাছে আনা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে আসার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কেউ হাসপাতালে পৌঁছায়নি।
জানা গেছে, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরও স্বামী যাহের আলভী তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরতে পারেননি। ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ের কাজে তিনি তখন নেপালে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ করে ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়ায় তার ফেরার বিষয়টি বিলম্বিত হয়। পরে রোববার দুপুরে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা জানানো হয়।
আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে ইকরার মরদেহ তার নিজ গ্রাম ময়মনসিংহের ভালুকায় নেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে মরদেহ ভালুকার রানদিয়া গ্রামে পৌঁছাবে। সেখানেই জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে ইকরাকে বিয়ে করেন যাহের আলভী। দীর্ঘদিন বিষয়টি আড়ালে থাকলেও ২০২৪ সালে তা প্রকাশ্যে আসে। তবে এই দাম্পত্য জীবনের শেষ অধ্যায়টি ছিল কষ্ট, অভিমান ও মানসিক ভাঙনের।
মৃত্যুর আগে প্রকাশ পাওয়া একাধিক ব্যক্তিগত কথোপকথনে ইকরা স্বামীর অবহেলা ও সম্পর্কজনিত মানসিক চাপে ভেঙে পড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সন্তানের কথা ভেবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
সব অভিযোগ, কষ্ট আর না বলা কথার মাঝেই থেমে গেল এক মায়ের জীবন। অথচ শেষ বিদায়ের মুহূর্তে সন্তানের মুখখানা দেখার সুযোগটুকুও আর হয়ে উঠল না।





























