
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে অতীত মার্কিন সামরিক নীতির সমালোচনা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোই উচিত হয়নি। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যেসব সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার অনেকগুলোই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যার দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান ইস্যুতেও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা সঠিক ছিল না। তবে একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কিছু সামরিক অভিযান পরিচালনা না করলে ইরান হয়তো ইতোমধ্যেই পরমাণু সক্ষমতা অর্জন করত।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সচেতনভাবেই ইরানের সামরিক কাঠামোর পুরোটা ধ্বংস করার পথ বেছে নেয়নি। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একটি দেশের সামরিক ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলে সেই দেশ বহু দশক ধরেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে না।
তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলগত সক্ষমতাকে দুর্বল করা, পুরো দেশকে ধ্বংস করা নয়। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে সংযত অবস্থান নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক নীতির ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে এটি ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তার পররাষ্ট্রনীতি পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত বহন করছে। ফলে আগামী দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে।




























