
আওয়ার টাইমস নিউজ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে উত্তর আমেরিকার দলটি।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে কানাডা। আক্রমণের পর আক্রমণে কাতারের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে দেয় স্বাগতিকরা। ম্যাচের ১৬তম মিনিটে কাইল লারিনের গোলে এগিয়ে যায় কানাডা। এই গোলের পরই ম্যাচের চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
গোল হজমের পর কাতার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও কানাডার আক্রমণ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়। ২৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জোনাথন ডেভিড। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েও গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা কাতারের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় ৩৩তম মিনিটে। কানাডার তাজন বুকানানকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ। ফলে ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় মধ্যপ্রাচ্যের দলটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামে আরও আক্রমণাত্মক কানাডা। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ৫২তম মিনিটে। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে গিয়ে ভয়ংকর ট্যাকল করেন কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো।
সংঘর্ষের পর মাঠে লুটিয়ে পড়েন কোনে। রিপ্লেতে দেখা যায়, তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ গুরুতরভাবে ভেঙে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মাঠের খেলোয়াড় ও দর্শকদের অনেকেই হতবাক হয়ে যান।
মাঠেই দীর্ঘ সময় চিকিৎসা দেওয়া হয় কোনেকে। পরে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের খেলোয়াড়ের এমন অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কানাডার কোচ জেসি মার্শ।
প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআরের সহায়তায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মাদিবোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার।
দুই খেলোয়াড় কম নিয়ে মাঠে থাকা কাতারের জন্য এরপর ম্যাচে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে কানাডা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক গোল করেন। গোল করার পর তিনি চোট পাওয়া সতীর্থ ইসমায়েল কোনের জার্সি তুলে ধরে আবেগঘন উদযাপন করেন।
ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে আরও বিপদে পড়ে কাতার। নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন মোহাম্মদ মানাই। আত্মঘাতী এই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০।
যোগ করা সময়ে নিজের তৃতীয় গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন জোনাথন ডেভিড। তার হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ৬-০ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে কানাডা।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্বাগতিক দেশের হয়ে হ্যাটট্রিক করা ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান ডেভিড। দীর্ঘ ছয় দশক পর স্বাগতিক দেশের কোনো খেলোয়াড় বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করলেন।
পুরো ম্যাচজুড়ে কানাডা ছিল একক আধিপত্যে। আক্রমণ, বল দখল ও সুযোগ তৈরিতে কাতারের তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিল তারা।
অন্যদিকে কাতারের জন্য এটি ছিল হতাশার এক রাত। বড় ব্যবধানে হার, দুই লাল কার্ড, একটি আত্মঘাতী গোল এবং একজন প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গুরুতর চোটের ঘটনায় ম্যাচটি তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকে।
এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘বি’-এর শীর্ষে উঠে এসেছে কানাডা। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে সুইজারল্যান্ড।
বিশ্বকাপে প্রথম জয় পাওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি রেকর্ডও গড়েছে কানাডা। স্বাগতিক দল হিসেবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবধানের জয়ের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে তারা।



























