
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ কাজ করেছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও ট্রাম্পের অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেছিলেন, ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনো ধরনের চুক্তি হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, এতে ইরান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেয়েছে।
চুক্তির ফলে ইরানের তেল রপ্তানির পথ আবারও উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনীতিতে শত শত কোটি ডলার প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া জব্দ থাকা কিছু সম্পদ ফেরত পাওয়ার পথও খুলে গেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বরং যুদ্ধ শেষে ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সম্ভাব্য অস্থিরতা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারত, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এমন পরিস্থিতি মার্কিন অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও আশঙ্কা করেছিলেন যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত অর্থনৈতিক সংকটকে তীব্র করতে পারে। তাই সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অংশ এবং ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই চুক্তি ইরানের ওপর চাপ কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন, নতুন সমঝোতার মাধ্যমে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সামনে আরও দীর্ঘ আলোচনা এবং নতুন কূটনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস



























