
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য ঘোষিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দীনকে সদস্যসচিব করে ১৬৮ সদস্যের এই বিশাল কমিটি ঘোষণার পরদিনই বড় ধাক্কা খেল দলটি। নতুন এই কমিটির নানা সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একযোগে ২২ জন নেতাকর্মী তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে দলটির একাধিক শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদত্যাগের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল যা এই পদত্যাগের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো। পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, নবগঠিত কমিটিতে দলের ত্যাগী, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। এর পরিবর্তে এমন কিছু বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, যাদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক রয়েছে। নেতাকর্মীদের দাবি, আদর্শ এবং নৈতিকতার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এই পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পদত্যাগকারী নেতারা আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ সামনে এনেছেন যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান কমিটির কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য করা, বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি এবং মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন। এমনকি কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির মতো মারাত্মক সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আদর্শিক রাজনৈতিক চর্চা বজায় রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন পদত্যাগী নেতাকর্মীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনস্বার্থ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পক্ষে তারা সবসময় কাজ করে যাবেন, তবে এই কলঙ্কিত কমিটির অংশ হয়ে নয়। উদ্ভূত এই রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তারা বর্তমান কমিটি পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছেন। এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এবং নিজেদের আপত্তির কথা জানাতে তারা খুব দ্রুতই এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের শরণাপন্ন হবেন বলে জানিয়েছেন।
পদত্যাগ করা এই ২২ জন নেতার তালিকায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ এহছানুল হক ও কামরুল কায়েস। এছাড়া যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সোহরাব চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম, বদিউল আলম, মোহাম্মদ সরোয়ার আলম ও ইকবাল মাসুদও এই পদত্যাগকারীদের দলে আছেন। সাংগঠনিক ও সহ-সংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে রকিবুল ইসলাম, ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ, হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, সাদমানুর রহমান চৌধুরী, সুফি মোহাম্মদ মিনহাজ, মোহাম্মদ কারিওল মাওলা, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মোশাররফ হোসেন রবিন, নুরুল আবছার সাইবান ও মোস্তফা রাশেদ আজগর একযোগে দল ছেড়েছেন। একই সাথে দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. নুরুদ্দীন, সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন এবং সাধারণ সদস্য মো. ওমর সাঈদ ও তাহজীব চৌধুরীও তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এই গণপদত্যাগের ফলে চট্টগ্রামের স্থানীয় এনসিপি রাজনীতিতে এক বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট ও সাংগঠনিক স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



























