
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। জানাজা ও দাফন কর্মসূচিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বা হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানান।
আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় কোম ও ইরাকের বিভিন্ন শহরেও শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সতর্ক করে বলেন, ইরানের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব দ্রুত ও শক্তভাবে দেওয়া হবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর এই সতর্কবার্তা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
জানাজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
জানাজা ও দাফন কর্মসূচিকে ঘিরে তেহরান, মাশহাদসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অঞ্চলের আকাশসীমায় সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা, ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, সব তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশনা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ‘লাল রেখা’।
‘শাহাদাত নতুন অধ্যায়ের সূচনা’ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, খামেনির শাহাদাত কোনো সমাপ্তি নয়, বরং নতুন এক পথচলার সূচনা। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই দিনব্যাপী পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয় গুরুত্ব পেলেও স্থায়ী শান্তি বা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। খামেনির দাফনের পর দুই দেশের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবারের বৈঠকে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন




























