
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য দেশটির প্রতিনিধিদের অনুমতি দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনায় অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে তেহরান ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নিয়েছে বা অতিরিক্ত কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত।
শুক্রবার (১৯ জুন) টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক লিখিত বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর এটিই ছিল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
খামেনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে শুরুতে তার আপত্তি ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ ও আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জনগণ এবং ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে সম্মত হন। একই সঙ্গে তিনি সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, তারা দেশের স্বার্থ বিবেচনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
খামেনি আরও দাবি করেন, আলোচনার পক্ষে থাকা কর্মকর্তারা তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কোনো দাবি তোলে, তাহলে তা গ্রহণ করা হবে না। তিনি এও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত চাপে পড়ে এবং হতাশা থেকেই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা খামেনির বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর ইরানবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক রাজ জিম্টের মতে, এই বক্তব্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে তিনি মনে করেন, খামেনি একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থানও নিরাপদ রাখতে চেয়েছেন। কারণ আলোচনা সফল হলে তিনি এর কৃতিত্ব নিতে পারবেন, আর ব্যর্থ হলে দায় বর্তাবে আলোচনার পক্ষে থাকা সরকারের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির এই বার্তা একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস



























