
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আলোচিত ইসলামি চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন, ‘কিসাসই এসব কসাইয়ের সমাধান’। তিনি সরাসরি না বললেও সবাই বুঝেছে, রাজধানীর মিটফোর্ডের নৃশংস প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড ও চাঁদপুরের মসজিদে ইমামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ভয়াবহ ঘটনার প্রেক্ষিতেই তিনি এ কথা বলেছেন।
গতকাল শুক্রবার (১১ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন:
‘কিসাস অর্থ সমপরিমাণ শাস্তি। যেভাবে যতটুকু জুলুম হবে, ঠিক সেভাবে ততটুকু প্রতিকার করা হলো কিসাস। কেন কুরআনে কিসাসের কথা বলেছে, তা আমরা দেয়ালে পিঠ ঠেকলে উপলব্ধি করতে পারি। এ ধরণের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে পারলে অপরাধের প্রবণতা কমে যাবে। প্রচলিত পদ্ধতিতে বছরের পর বছর ধরে বিচার কাজ চললে, আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পাওয়ার পথ খোলা থাকলে এ ধরণের অপরাধ কখনো কমবে না।’
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই কথার মূল কথা হলো—যেমন জুলুম, তেমন শাস্তি—এই নীতিই ইসলামে কিসাসের মূল শিক্ষা।
‘হত্যার বদলে হত্যা’ এ কথার ব্যাখ্যা কী?
শায়খ আহমাদুল্লাহর স্ট্যাটাসের ভাষ্য স্পষ্ট, কুরআনে কিসাসের বিধান হলো সমাজে জুলুম ও খুনোখুনির লাগাম টানার কঠোরতম উপায়। কিসাস মানে, যে হত্যা করবে তাকে অনুরূপ শাস্তি দেওয়া, এতেই ভবিষ্যতের খুনিরা ভয় পাবে। যদি নৃশংস খুনিরা দেখে, আইন কখনোই তাদের ছাড়বে না, কোনো ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী তাদের রক্ষা করতে পারবে না, তাহলে খুনের উৎসব বন্ধ হবে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে মামলা ঝুলিয়ে রাখলে অপরাধীরা বাঁচার ফাঁকফোকর খুঁজে পায়। আর এতে সাহস পায় আরও কসাই। কিন্তু যদি কিসাস দ্রুত কার্যকর হয়, তখন কেউ প্রকাশ্যে রাস্তায় কাউকে কুপিয়ে হত্যার সাহস পাবে না।
কেন আজ এই বার্তা জরুরি?
পুরান ঢাকার মিটফোর্ডে শত শত মানুষের সামনে প্রকাশ্যে চাঁদ মিয়া ওরফে সোহাগকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা এবং চাঁদপুরে মসজিদের ইমামকে খুতবা ভালো না লাগায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম, এ দুটি ঘটনার রক্তাক্ত বার্তা পুরো জাতিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষ বিস্মিত, আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ, এভাবে কি আর সমাজ টিকে থাকতে পারে?
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ‘হ’ত্যার বদলে হ’ত্যা’ কুরআনের এই কঠোর নীতি ছাড়া আর কোনো উপায় নেই এ রক্তপিপাসুদের দমাতে। ইসলামের কিসাস আইনেই আছে এর সমাধান। জুলুমকারীর ভয়ই সমাজের শান্তি।
বিচার দ্রুত শেষের দাবি
শায়খ আহমাদুল্লাহর কথায়, ‘যদি সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে এমন খুনের বিচার শেষ হয়ে প্রকাশ্যে শাস্তি কার্যকর হয়, তবে এসব কসাই আর জন্মাবে না।’
এটাই ইসলামের কঠোর ন্যায়বিচারের শিক্ষা, অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে। অন্যথায় হিংস্র কসাইদের খুনের উৎসব থামানো যাবে না। তাই ‘হত্যার বদলে হত্যা’ এই কথাই আজকের দুনিয়ায় কিসাসের বাস্তব ব্যাখ্যা।





























