
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় গতবছর ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে নিহত ছাত্র ইমাম হাসান তাইমকে রাস্তায় ফেলে রাখে পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ কাতরানো অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিতে না দিয়ে মৃত্যুর দৃশ্য যেন উপভোগ করছিল তারা।
সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিতে গিয়ে এ ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন তাইমের বড় ভাই রবিউল।
তিনি জানান, তাদের বাবা নিজেও একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ছেলেকে হত্যার পর তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, “একজন মানুষকে মারতে কয়টা গুলি লাগে স্যার? আমার ছেলের কী দোষ ছিল, কেন তার শরীরে দুইশ গুলি মারা হলো?”
রবিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমাম হাসান তাইম ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। ঘটনার দিন ২০ জুলাই দুপুরে কারফিউ শিথিল হলে বন্ধুদের সঙ্গে কাজলা এলাকায় আন্দোলনে যোগ দেন। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পরিবারের কাছে খবর আসে তাইমকে গুলি করা হয়েছে। তার জুতাগুলো তখনো রক্তাক্ত রাস্তায় পড়ে ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাজলা ব্রিজের কাছে মিছিল চলাকালে পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ছত্রভঙ্গ হলে তাইম ও তার কয়েক বন্ধু একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু পুলিশ তাদের টেনে বের করে লাঠিপেটা করে। এরপর দৌড়াতে বললে তাইমকে পায়ে গুলি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শরীরের নিচের অংশ ও পেটে গুলি লাগে। পরে কাছ থেকে শর্টগানের গুলিতে ঝাঁঝরা করা হয় তার শরীর।
অর্ধমৃত অবস্থায় প্রায় আধা ঘণ্টা রাস্তায় পড়ে থাকলেও পুলিশ হাসপাতালে নিতে দেয়নি। বরং যাত্রাবাড়ী থানার সামনে এনে তার দেহ ফেলে রাখা হয়। সেখানে বুটজুতা দিয়ে শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রবিউল ট্রাইব্যুনালে আরও জানান, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়—তৎকালীন ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, এডিসি শামীম, এসআই সাজ্জাদুজ্জামান, ওসি তদন্ত জাকির হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ভিডিওতে মুহুর্মুহু গুলি চালানোর দৃশ্যও আদালতে প্রদর্শন করা হয়।
ঘটনার পর পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও কোনো থানায় অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানায় পুলিশ। এমনকি তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমানও তাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। মামলা দিতে না পেরে পরিবারকে পালিয়ে যেতে হয়।
শহীদ ইমাম হাসান তাইম নারায়ণগঞ্জ সরকারি আদমজীনগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।





























