
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকার পুরান আরমানিটোলা এলাকায় ঘটে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইনের হত্যার ঘটনা শিক্ষাজগত এবং সাধারণ জনগণকে স্তম্ভিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা, প্রেমের টানাপোড়েন ও রাগ ছিল মূল প্ররোচনা।
প্রেমের সম্পর্কের প্রেক্ষাপট
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বর্ষা শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন, তার দীর্ঘদিনের প্রেমিক মাহির রহমানের সঙ্গে সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বর্ষা ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে পড়তেন এবং মাহির ফার্স্ট ইয়ারে বুরহান উদ্দীন কলেজে পড়াশোনা করতেন। তাদের বন্ধুত্ব চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা প্রেমে রূপ নেয়।
সম্প্রতি তাদের সম্পর্ক ভেঙে গেলে বর্ষা মাহিরকে জানায় যে, তার পছন্দ জোবায়েদ হোসাইনের দিকে। পুলিশ জানায়, বর্ষা এই বিষয়টি জোবায়েদকে তখনো জানাননি। বিষয়টি জানতে পেরে মাহির এবং তার বন্ধু নাফিস রাগে ক্ষোভে জোবায়েদকে হত্যা করে।
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্ষা সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তার বয়ফ্রেন্ড মাহির ও নাফিস পরিকল্পিতভাবে জোবায়েদকে হত্যা করেছে।
হত্যার স্থান ও ঘটনা
জোবায়েদ হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণের সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কও ছিলেন। হত্যার দিন বিকাল ৪:৪৫ মিনিটে তিনি বর্ষার বাসার তৃতীয় তলায় ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন। বাসার নিচতলার সিঁড়ি থেকে তৃতীয় তলার সিঁড়িতে রক্তের চিহ্ন দেখা যায়। লাশ উপুড় অবস্থায় পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের পরিচয় মূলত তার বন্ধুর মাধ্যমে হয়েছে। বর্ষা ফেসবুকে জোবায়েদের বন্ধু সৈকতের সঙ্গে পরিচিত হলেও অন্য কোনো মাধ্যমে বা মেসেজে তাদের সরাসরি যোগাযোগ ছিল না।
পুলিশি পদক্ষেপ ও তদন্ত
ঘটনার পর রোববার রাত ১১টার দিকে পুলিশ বর্ষাকে হেফাজতে নেয়। তার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাথমিকভাবে আটক করে। নিহত জোবায়েদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে হত্যার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলার নামমাত্র কার্যক্রম শুরু হয়নি। জোবায়েদের পরিবার মামলা করতে চাইলে বংশাল থানার ওসি কয়েকজনের নাম ছাড়া মামলা গ্রহণের পরামর্শ দেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলায় সব আসামির নাম না দিলে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হবে।
ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, মামলা গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক উত্তেজনা
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভে নামে। তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতা হত্যার ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি পরিকল্পিত ও চিন্তাশীল হত্যাকাণ্ড।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং শিক্ষাজগৎ ও সমাজের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।





























