
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিউজ ডেস্ক: জুলাই-আগস্টের উত্তাল গণআন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মর্মান্তিক ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বুধবার রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশ সদস্য শেখ আফজালুল হক, যিনি সেই সময় আশুলিয়া থানায় উপ-পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বেলা ১১টার দিকে দেওয়া তাঁর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে শিহরণ জাগানো বর্ণনা। তিনি বলেন, আশুলিয়া থানার সামনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এরপর নিহতদের মরদেহ একটি পিকআপ ভ্যানে তুলে তাতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তার দাবি—এই ভয়ংকর অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ এবং সাবেক এসআই বিশ্বজিৎ সাহা।
মামলায় কারা কারা অভিযুক্ত?
এই নৃশংস ঘটনায় মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম
ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী
জেলা ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন
আশুলিয়া থানার সাবেক এসআই আবদুল মালেক
আরাফাত উদ্দীন
কামরুল হাসান
শেখ আবজালুল হক
সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার
অপরদিকে, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ মামলার আরও আটজন বর্তমানে পলাতক।
⚖️ রাজসাক্ষীর স্বীকারোক্তি
আসামিদের তালিকায় থাকা পুলিশ সদস্য শেখ আফজালুল হক নিজের অংশগ্রহণ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি স্পষ্ট জানান, শুধুমাত্র নির্দেশের কারণে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ও প্রমাণনাশের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র প্রতিক্রিয়া
জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই সাক্ষ্য জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়ংকর অধ্যায়কে সামনে নিয়ে এসেছে, যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় নিহতদের পরিবার আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে।





























