
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন, বাম চোখ লাফালে কোনো অশুভ ঘটনা ঘটবে, কষ্ট আসবে বা কোনো খারাপ খবর পাওয়া যাবে। কিন্তু ইসলামে এসব বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। চোখ লাফানো হচ্ছে কেবল শরীরের স্বাভাবিক এক অবস্থা, যা ক্লান্তি, টেনশন বা স্নায়ুর অস্বাভাবিক সংকোচনের কারণে ঘটে।
ইসলাম সবধরনের কুসংস্কার, অশুভ ধারণা বা প্রতিকূল লক্ষণকে সরাসরি নিষেধ করেছে।
ইসলামে কুসংস্কারের স্পষ্ট নিষেধ
১. কুসংস্কারকে শিরকের দিকে যাওয়ার পথ বলা হয়েছে
রাসূল ﷺ কুসংস্কারকে আল্লাহর ওপর ভুল ধারণা তৈরি করার একটি পথ বলেছেন।
আরবি হাদিস
قال رسول الله ﷺ: «الطِّيَرَةُ شِرْكٌ»
অর্থ: “কুসংস্কার গ্রহণ করা শিরকের একটি অংশ।”
(সহীহ আবু দাউদ)
এখানে ‘ত্বিয়ারা’ অর্থ, চোখ লাফানো, ডান/বাম দিক অশুভ ধরা, পশুর আওয়াজ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া, এসব সবই।
২. অশুভ লক্ষণ বিশ্বাস করা নিষিদ্ধ
মানুষ যখন কোনো স্বাভাবিক ঘটনাকে অশুভ মনে করে, তা আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্দেহ সৃষ্টি করে।
আরবি হাদিস
قال ﷺ: «لَا عَدْوَى، وَلَا طِيَرَةَ…»
অর্থ: “(স্বাভাবিক) রোগ নিজের থেকে ছড়ায় না, অশুভ লক্ষণও নেই…”
(সহীহ মুসলিম)
অর্থাৎ, যেসব ঘটনার পেছনে কোনো শরঈ কারণ নেই, সেগুলোকে অশুভ বলা একেবারেই নিষিদ্ধ।
৩. কুসংস্কারে ভীত হলে দোয়া
কারো মনে যদি ভয় ঢুকে যায়, ইসলামে তার জন্য দোয়া শিখানো আছে।
আরবি দোয়া
اللَّهُمَّ لَا خَيْرَ إِلَّا خَيْرُكَ، وَلَا طَيْرَ إِلَّا طَيْرُكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ
অর্থ: “হে আল্লাহ! সকল ভাল তোমার পক্ষ থেকেই, কোনো কুসংস্কার নেই, আর কোনো উপাস্য নেই তোমাকে ছাড়া।”
এই দোয়া দেখায়, মুমিন শুধু আল্লাহর ওপর ভরসা করে, কোনো লক্ষণকে ভয় পায় না।
তাহলে বাম চোখ লাফানো কেন হয়?
ইসলামের মতে: এটি শারীরিক বিষয়, আধ্যাত্মিক নয়।
চোখ লাফানোর সাধারণ কারণসমূহ
অতিরিক্ত কাজ বা রাত জাগা
মানসিক চাপ
শরীরে পানিশূন্যতা
ভিটামিনের ঘাটতি
স্নায়ুর স্বাভাবিক সংকোচন
এগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা, ইসলাম এগুলোকে বাস্তব কারণ হিসেবে গ্রহণ করে, কুসংস্কার নয়।
ইসলামের রায় এক বাক্যে
“বাম চোখ লাফানো কোনো অশুভ লক্ষণ নয়।
এটি কুসংস্কার; ইসলাম এতে বিশ্বাস করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে।”






























