
আওয়ার টাইমস নিউজ।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি সামরিক অভিযানে বিপুল প্রাণহানির তথ্য সামনে এসেছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে পরিসংখ্যান, তা প্রথমবারের মতো কার্যত স্বীকার করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের এই সংখ্যা মোটামুটি সঠিক বলে মেনে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর আগে ইসরাইল এসব তথ্যকে অবিশ্বাসযোগ্য ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৬৭ জনে। নিহতদের প্রায় অর্ধেকই নারী ও শিশু। তবে এই পরিসংখ্যানে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মানুষ কিংবা অনাহার ও রোগে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও গবেষকদের মতে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, গাজায় সহিংসতার কারণে প্রকৃত প্রাণহানি কয়েক গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার।
বর্তমানে গাজায় প্রায় ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইসরাইল খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি ত্রাণ প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
এর ফলে গাজায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম


























