
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সামাজিক আস্থার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখা গেল কুমিল্লার দেবিদ্বারে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর নির্বাচনী তহবিলে ১৪ লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন তার স্কুলজীবনের বন্ধু ও সহপাঠীরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৪ ব্যাচের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
আয়োজকরা জানান, দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরা সম্মিলিতভাবে এই তহবিল গঠন করেন। অনুষ্ঠানে সরকার সাকিব, আহম্মেদ শুভ, মহতাদির যারিফ সিক্তসহ ওই ব্যাচের একাধিক বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেবিদ্বার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০১৪ ব্যাচের বন্ধুরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্ধুরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক অনুদান নয়, বরং বন্ধুত্ব, আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত হলে হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেবিদ্বারে তিনি স্বচ্ছ, স্পষ্ট ও জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে স্বচ্ছতা ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করবেন না বলে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, দেবিদ্বারের মাটিতেই তার বেড়ে ওঠা। এলাকার রাস্তাঘাট, মানুষের জীবনযাপন ও সমস্যাগুলো তার নিজের চোখে দেখা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন আনতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অতীতের নানা সমালোচনা ও কটূক্তির কথা উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, একসময় তাকে বলা হয়েছিল তিনি উল্লেখযোগ্য ভোটও পাবেন না, এমনকি ব্যক্তিগতভাবে অপমানেরও শিকার হতে হয়েছে। তবুও তার বিশ্বাস ছিল, রেয়াজ উদ্দিনের বন্ধুরা পাশে থাকলে আলাদা করে কাউকে খুঁজতে হবে না।
তিনি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ব্যাচগুলোর শিক্ষার্থীদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সেই আস্থার মর্যাদা রাখতে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়ার প্রত্যয় জানান।
দেবিদ্বারকে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারতন্ত্র নয়, যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতেই নেতৃত্ব গড়ে উঠতে হবে। যে কেউ যদি মেধা ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে সামনে আসে, দেবিদ্বারের মানুষ তাকে গ্রহণ করবে।
সবশেষে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেবিদ্বার গড়া সম্ভব।


























