
আওয়ার টাইমস নিউজ।
ইসলামী ডেস্ক: ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো যাকাত। এর মধ্যে বিশেষ করে সদকাতুল ফিতর রমজান মাসের শেষে প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর ওয়াজিব বা অপরিহার্য। এটি কেবল একটি আচার নয়, বরং এক মাসের রোজার শেষে ক্ষুদ্র ভুলত্রুটি পূরণ ও দরিদ্রদের মুখে হাসি ফোটানোর এক অনন্য মাধ্যম।
ফিতরার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ফিতরা আদায়ের মূল উদ্দেশ্য দুটি:
রোজার ক্ষতি পূরণ করা:
রোজা রাখার সময় আমরা অনিচ্ছাকৃতভাবে ছোটখাটো ভুল করি, যেমন অশালীন কথা বলা, অযথা রাগ বা অশিষ্ট আচরণ। হাদিসে বলা হয়েছে, ফিতরা এই ক্ষতিগুলো পূরণ করে।
গরিব ও সুবিধাবঞ্চিতদের সহায়তা:
ফিতরা এমনভাবে বিতরণ করতে হবে, যাতে ঈদের আনন্দ শুধুমাত্র ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি গরিব, নিঃস্ব ও অভাবী মানুষের খাদ্য ও আনন্দ নিশ্চিত করে।
সাহাবি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন যে ফিতরা আদায় প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-পরাধীন নির্বিশেষে। যারা ঈদের দিনে “সুবহে সাদিক” সময় নিজের সম্পদে যাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ সম্পদের মালিক, তাদের ওপর ফিতরা আদায় করা বাধ্যতামূলক।
ফিতরার পরিমাণ ও পদ্ধতি
ইসলামিক শরিয়তে ফিতরা আদায়ের নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। আদায় করা যেতে পারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মাধ্যমে:
খেজুর, কিশমিশ, পনির, যব – এক সা’ বা প্রায় ৩ কেজি ২৭০ গ্রামের সমমূল্য পরিশোধ করতে হবে।
গম বা আটা – অর্ধ সা’ বা প্রায় ১ কেজি ৬৩৫ গ্রামের বাজারমূল্য।
দেশের স্থানীয় বাজার অনুযায়ী, এক অর্ধ সা’র পরিমাণ প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম ধরা হয়। সামর্থ্যবানদের উচিত সর্বনিম্ন মূল্যের আটা বা গম দিয়ে ফিতরা না দেওয়া; বরং মূল্যমান বেশি খাদ্যপণ্য ব্যবহার করা উচিত, যেন দরিদ্ররা বেশি উপকৃত হতে পারে।
ফিতরা আদায়ের সময়
সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের নামাজের আগে, যাতে গরিবরা নামাজের সময় আনন্দের অংশীদার হতে পারে। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, নামাজের আগে এটি দরিদ্রদের হাতে পৌঁছানো উচিত।
যদি কোনো কারণে ঈদের নামাজের আগে ফিতরা দিতে না পারেন, তবে ঈদের দিন কিংবা পরবর্তী সময়ে প্রদান করাও গ্রহণযোগ্য।
ফিতরা কার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়
ফিতরা শুধু দাতার নিজস্ব পক্ষ থেকে নয়, নিজের অধীনে থাকা পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পক্ষ থেকেও অভিভাবককে তা আদায় করতে হয়। এটি শিশুদের পক্ষ থেকেও প্রদান করতে পারেন পিতা বা অভিভাবক।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অনেকে ভুল ধারণা করে যে শুধু যাকাতদাতা ফিতরা দেবেন। বাস্তবে ফিতরায় বছরের সম্পদ রাখার শর্ত নেই। এখানে মূল বিষয় হলো ঈদের দিন দাতার আর্থিক সামর্থ্য। ফিতরা সর্বোত্তমভাবে দিতে হলে যা দাতার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান এবং সুবিধাজনক, তা দিয়ে দান করা উচিত।
ফিতরা সঠিকভাবে আদায় করলে রোজার সামান্য ভুলত্রুটি দূর হয় এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। এটি রমজানের মহিমা ও বরকত বৃদ্ধি করার এক সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।






























