
আওয়ার টাইমস নিউজ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ধর্মীয় প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনাঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ডিজি হলেন জনপ্রিয় ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী দেশের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মাইলফলক রচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পেশাদার আলেম এবং মসজিদের ইমামকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সম্মানিত ও জনপ্রিয় পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মানজনক দায়িত্ব লাভ করেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী ও যুগান্তকারী নিয়োগের খবরটি দেশের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক উভয় অঙ্গনেই অত্যন্ত ইতিবাচক এবং প্রশংসনীয় সাড়া ফেলেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে সরকারি আদেশ অনুযায়ী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন ১৯৭৫-এর ধারা ৫(ক)(১) ও ৫(ক)(২) এর আলোকে অন্যান্য সকল পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগের শর্তে তাকে পরবর্তী এক বছরের জন্য সচিব পদমর্যাদার এই উচ্চ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। এর আগে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে সাধারণত আমলারা দায়িত্ব পালন করে আসলেও, এবারই প্রথম একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় ও যোগ্য আলেমকে এই আসনে বসানো হলো।
মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী একজন বহুমাত্রিক ও আধুনিক শিক্ষায় দীক্ষিত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তার শিক্ষাজীবন কওমি, আলিয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার এক চমৎকার সমন্বয়। তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের বিশ্বখ্যাত দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে অধ্যয়ন করেছেন। কওমি ধারায় দাওরায়ে হাদিস এবং আলিয়া ধারায় কামিল সম্পন্ন করার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করার অনন্য গৌরব অর্জন করেন।
শিক্ষকতা, শরিয়াহ গবেষণা এবং দেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাতের প্রসারে তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবন রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামসহ দেশের একাধিক নামকরা মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন অধ্যাপনা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়নে অন্যতম প্রধান নীতি-নির্ধারক হিসেবে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরীয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামী ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সাথে তিনি স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ দেশের বহু শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে দক্ষতার সাথে যুক্ত ছিলেন।
একজন সৎ, যোগ্য ও কর্মঠ আলেমকে এই শীর্ষ পদে নিযুক্ত করার মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও নতুন আমেজ ফিরে আসবে বলে দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ ও আলেম সমাজ গভীরভাবে প্রত্যাশা করছেন।



























